ফেসবুকের পাতা থেকে জনৈক শুভদীপ দান'এর পাতা থেকে সংগৃহীত
"তবে এটা বলতেই হবে যে ওঁর দৌলতে এই চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে সার্কাস সম্বন্ধে অনেক তথ্য জেনে ফেলেছি। কে জানত আজ থেকে একশো বছর আগে বাঙালীর সার্কাস ভারতবর্ষে এত নাম কিনেছিল?"
'এই গ্রেট ম্যাজেস্টিক কোন দেশি সার্কাস মশাই?' জিজ্ঞেস করলেন লালমোহনবাবু৷
'দক্ষিণ ভারতীয়ই হবে,' বলল ফেলুদা,'সার্কাসটা আজকাল ওদের একচেটে হয়ে গেছে।'
-ছিন্নমস্তার অভিশাপ
হ্যাঁ,একসময় বাঙালীর সার্কাস সত্যিই এতটাই নাম কিনেছিল৷ভারতের নেটিভদের মধ্যে সার্কাসকে এত উচ্চ পর্যায়ে প্রথম নিয়ে যায় বাঙালীরাই৷
আর বাঙালীর সার্কাস বলতেই বোঝায় "প্রোফেসর বোসের দি গ্রেট বেঙ্গল সার্কাস" বা "বোসের সার্কাস"৷
এমন নয় যে এর আগে বা পরে কোন বাঙালী কখনো কোনও সার্কাস গঠনের চেষ্টা করে নি তবে সেগুলির অধিকাংশই হয় স্থায়ী হয় নি নয় তো বিশেষ উল্লেখযোগ্য নয় অথবা গুরুত্ব হারিয়ে অবশেষে "বোসের সার্কাস" এর সাথেই মিশে গেছে৷
বাঙালী তথা নেটিভদের মধ্যে সার্কাস গঠনের প্রথম চেষ্টা করেন সম্ভবত হিন্দুমেলা খ্যাত নবগোপাল মিত্র৷তাঁর সার্কাসের নাম ছিল "ন্যাশনাল সার্কাস"৷
এরপরে এই নবগোপাল মিত্রের জামাতা তথা হিন্দুস্কুলের ব্যায়ামশিক্ষক রাজেন্দ্রলাল সিংহ আরও কয়েকজন ব্যায়ামশিক্ষক যেমন শ্যামাচরণ ঘোষ,দীননাথ ঘোষ,যোগীন্দ্রনাথ পাল প্রমুখের সঙ্গে মিলে "গ্রেট ইন্ডিয়ান সার্কাস" নামে এক সার্কাস খোলেন৷
পরবর্তীকালে স্বনামধন্য রাজা রামমোহন রায়ের পৌত্র হরিমোহন রায় এই "গ্রেট ইন্ডিয়ান সার্কাস" দল কিনে নিয়ে "হরিমোহন রায়ের দল" নামক সার্কাস গঠন করেন৷
এই "গ্রেট ইন্ডিয়ান সার্কাস"/"হরিমোহন রায়ের দল" পরে "বোসের সার্কাস" এর সঙ্গে একত্রীভূত হয়ে যায়৷
এরপরে রাখালচন্দ্র দাঁ,মতিলাল মিত্র,বিহারীলাল মিত্র,গিরীশচন্দ্র শ্রীমানী প্রমুখ মিলিত হয়ে "ইউনাইটেড ইন্ডিয়ান সার্কাস" নামক এক সার্কাস গঠন করেন৷
এই সার্কাস অচল হয়ে গেলে পর মতিলাল মিত্র ও বিহারীলাল মিত্র "বোসের সার্কাস"এ যোগ দেন৷
রাখালচন্দ্র দাঁ "আগাসীর সার্কাস" নামক এক মারহাট্টি সার্কাসে যোগ দেন৷
প্রবোধচন্দ্র বসু নামক একজন "সীজনস্ সার্কাস" নামক এক সার্কাস গঠন করেন যা কিছুদিন চলার পর অচল হয়ে গেলে প্রোফেসর বোস তা কিনে নেন৷
মহারাজা স্যার মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দী প্রচুর অর্থব্যয় করে "মারহাট্টা সার্কাস" নামক এক সার্কাস গঠন করেন কিন্তু তাও চলে নি৷
এছাড়াও জনৈক নারায়ণচন্দ্র বসাক,"বসুমতী"র উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় প্রমুখ অনেকেই অনেক ছোট ছোট সার্কাসদল গঠন করেছিলেন যেগুলি বেশীদিন স্থায়িত্ব পায় নি৷
"বোসের সার্কাস" এর ৩৩ বছরের উজ্জ্বল জীবনকালে আর কোন দেশীয় সার্কাস তার ধারেকাছে আসতে পারে নি৷উপরন্তু এই সার্কাস সমসাময়িক অনেক ইউরোপীয়ান সার্কাসকেও টেক্কা দিয়েছিল৷
"বোসের সার্কাস" এর পর যদি কোন উল্লেখযোগ্য দেশীয় সার্কাসের নাম করতে হয় তো সেটা হল কৃষ্ণলাল বসাকের "হিপোড্রোম সার্কাস" যা প্রায় ১৪ বছর স্থায়ী হয়৷
তবে "বোসের সার্কাস" এর সঙ্গে "হিপোড্রোম সার্কাস" এর একটি মূল পার্থক্য ছিল এই যে "হিপোড্রোম সার্কাস" এর মালিক বাঙালী,খেলোয়াড়দের অধিকাংশই ছিলেন বিদেশী৷অন্যদিকে "বোসের সার্কাস"এ পরবর্তীকালে কিছু বিদেশী স্থান পেলেও এই সার্কাসের পরিচালনা,পশুশিক্ষা,অশ্বারোহণ,ট্রাপিজের খেলা,বাঘের খেলা ইত্যাদি সব বিভাগেই ছিল বাঙালীর রমরমা৷এমনকী বাঙালী নারীরাও এই সার্কাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল৷
আর এখানেই "বোসের সার্কাস" বিদেশীর বিস্ময় আর স্বদেশীর তথা বাঙালীর গৌরব হয়ে উঠেছিল৷
.........ফেসবুকের পাতা থেকে জনৈক শুভদীপ দান'এর পাতা থেকে সংগৃহীত




No comments: