WHAT’S HOT NOW

ads header

West Bengal

Theme images by kelvinjay. Powered by Blogger.

Satire

Ancient

Mahabharat

Mahabharat

History

দাশনগর নামকরণ কেন হয়েছে


আলা মোহন দাশের জন্ম ১৮৯৫ সালে হাওড়ার বর্তমান উদয়নারায়নপুরের অন্তর্গত খিলার বড়ুইপুরে এক নিম্নবিত্ত পরিবারে | পিতা ছিলেন গোপীমোহন দাশ | মাতা বিরাজময়ী দেবী।অভাবের সংসার | পরিবারের সকলের দুবেলা দুমুঠো ভাত জোগাড় হওয়াই দুস্কর | ছোটবেলায় গুরুতর অসুস্থ হলে তাঁকে গ্রামীন কবিরাজের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। কবিরাজ তাকে মৃত বলে ঘোষনা করেন। শ্মশানে নিয়ে যাওয়ার পর দেখা যায় তিনি জীবিত। ঠাকুরমা অসুস্থ ছেলের নাম রাখেন “অ্যলা ছেলে”। এই অ্যলা ক্রমে হয়ে যায় “আলা”। তাঁর পিতৃদত্ত নাম সুরেন্দ্রমোহন দাশ | কিন্তু বাঙালির কাছে তিনি আলামোহন দাশ।

ব্যবসাকে সঙ্গী করেই নাম কামিয়েছিলেন আলামোহন দাশ | হাওড়ার এঁদো গলি থেকেই তাঁর পথ চলা শুরু। তাঁর নামেই গড়ে ওঠে আজকের হাওড়ার অন্যতম জনবহুল এলাকা “দাসনগর”। এখানেই তিনি গড়ে তুলেছিলেন তাঁর বিশাল সাম্রাজ্য। 

আলা তখন আট বছরের। হঠাৎ করেই মহামারি লেগে যায় তাঁর পরিবারে। পরিবারের নিশ্চিহ্ন হওয়ার জোগাড় হয় রোগের ধাক্কায়। বাবা গোপীকে কোনরকমে বাঁচানো গেলেও খরচ সামলাতে গিয়ে ঘটি বাটি বেচে পথে বসতে হয়। এমত অবস্থায় পরিবারের যাদুর কাঠির রূপ নেয় পৈতৃক বাড়ির ঘরের কোন থেকে পাওয়া এক বস্তা কয়েন। সেই কয়েনই বাঁচিয়ে দেয় আলার পরিবারকে।

প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেই ১৪ বছর বয়সে তাকে উপার্জনের হাল ধরতে হয়। আলামোহন কলকাতায় কাকার বাড়ি চলে আসেন। লেখাপড়ায় ইস্তফা দিয়ে বালক বয়সেই ফেরি করতে হচ্ছিল মুড়ি। রতিকান্ত দে’র থেকে খই মুড়ি কিনে শুরু করেন নিজের ব্যবসা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলত সেই লড়াই। কিন্তু ছিল অদম্য সাহস ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা | ছিল অটল মনোবল ও সৎসাহস | ছিল অবিচল সত্যনিষ্ঠা ও শ্রমনিষ্ঠা | কলকাতা শহরে মজুর, সেলসম্যান ইত্যাদির কাজ করার পর নিজে খাদ্য শষ্যের দোকান তৈরি করেন। প্রথমে ছোট ব্যবসা করলেও পরে তিনি বৃহৎ শিল্পের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ধীরে ধীরে ব্যবসা বাড়ল | তারপর দৃঢ়চেতা আলমোহন সামান্য মুনাফা নিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে চললেন সিঁড়ি বেয়ে দীর্ঘ পদক্ষেপে ।

হাওড়া কেমিক্যাল ফ্যাকটরি তাঁর সৃষ্ট প্রথম শিল্পোদ্যোগ। কিছু বাঙালি শুভানুধ্যায়ীদের সাহায্যে তিনি ১৯৩০ সালে তিনি হাজার বিঘা জমির উপর ইন্ডিয়া মেশিনারি কোম্পানি স্থাপন করেন | উৎকৃষ্ট মানের লেদ, ওজন যন্ত্র, ছাপার যন্ত্র তৈরী হত তার কারখানায়। ১৯৩৭ সালে হাওড়ার শানপুরে ভারত জুট মিল স্থাপন করেন যা উদ্বোধন করেছিলেন আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়। ওই বছরেই পান “কর্মবীর” পুরস্কার। আর্থিক সচ্ছলতা ও লাভের মুখ দেখার পর আলামোহন ১৯৪১ সালে হাওড়া ইনস্যুরেন্স কোম্পানী, ১৯৪২ সালে এশিয়া ড্রাগ কোম্পানী স্থাপন করেন। আরতি কটন মিল, দাস সুগার কোম্পানী তৈরী করা তাঁর অন্যতম কৃতিত্ব। সেইসময় দেশের পাট শিল্পের প্রান কেন্দ্র ছিল আরতি কটন মিল। এখন যা চলে গিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে | তিনি নিজস্ব ব্যাংকের ব্যবসাও করেছিলেন। বাংলায় তাঁর ব্যাংকের ১২ থেকে ১৪ টি শাখা ছিল। স্কুল, মন্দির নির্মান, পুকুর খনন ইত্যাদি জনকল্যানমূলক কাজ করে গেছেন আলামোহন দাস। তিনি তাঁর গ্রামে পিতার নামে খিলা গোপি মোহন শিক্ষা সদন বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।

১৯৫১ সালে আমতা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্দল প্রার্থী হিসাবে জয়লাভ করে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিধানসভার সদস্য হন
১৯৬৯ সালে চুয়াত্তর বছর বয়সে পরলোকগমন করেন বাংলা ও বাঙালির গর্ব আলামোহন দাশ | তিনি মারা যাওয়ার পর এই বিশাল সাম্রাজ্য ধরে রাখতে পারেনি পরবর্তী প্রজন্ম। পরে রয়েছে শুধু আলামোহন সাম্রাজ্যের ফসিলটুকু। দাসনগরের মোড়ের মাথায় তাঁর মূর্তিটা এখনও যেন বলছে বাঙালি গা ঝাড়া দিলে এখনও দেখিয়ে দিতে পারে।
তথ্য- উইকিপিডিয়া, kolkata24x7

মেক্সিকোর ওলমেক সভ্যতার পাথুরে মূর্তি


ছবির নীল জামা পরা মানুষ দুজন বিংশ শতাব্দীর প্রত্নতত্ত্ববিদ। ম্যাথু স্টারলিং এবং ম্যারিয়ন স্টারলিং। সাদা জামা পরা মানুষটি স্থানীয় গাইড। ম্যাথুকে ওলমেক সভ্যতার আবিষ্কারক হিসেবে সবাই চেনেন। এরা দুজনেই Smithsonian's Bureau of American Ethnology-র অধিকর্তা ছিলেন। এই দম্পতি মেক্সিকোর কয়েকটি অঞ্চলে খোদাই করে পাথরের তৈরি এইরকম বড় বড় মূর্তি দেখতে পান। কার্বন ডেটিং দ্বারা প্রমাণিত হয় যে এই ধরণের মূর্তিগুলো তৈরি হয়েছিল ১২০০ খ্রীষ্ট পূর্বাব্দ থেকে ৪০০ খ্রীষ্ট পূর্বাব্দ পর্যন্ত।

প্রতিটা মূর্তির আদলে আফ্রিকার মানুষের ছাপ স্পষ্ট লক্ষ্য করা যায়। বলা হয় বড় বড় পাথরের চাঁই এনে একেক জায়গায় বসানো হত। তারপর সেই পাথর কেটে ওলমেকরা এই ধরণের মূর্তি তৈরি করত। এই ধরণের মূর্তি তৈরি করে তারা কি বলতে চাইত তার অনেক ধরণের ব্যাখ্যা আছে। যুক্তি এবং কুযুক্তিও আছে। সে কথা পরে হবে।

আমাদের পৃথিবীতে অনেক অনেক রহস্য লুকিয়ে আছে। ওলমেকদের এই স্থাপত্য একটি অন্যতম রহস্য।

ওলমেক সভ্যতার অনেক কিছুই জানা যায়নি। হঠাৎ করেই এই সভ্যতা হারিয়ে যায় ৩৫০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দ নাগাদ। পাথরের তৈরি বিশাল বিশাল মূর্তি এই সভ্যতাকে আলাদা ভাবে চিনিয়ে দিতে সাহায্য করে। শিরস্ত্রাণ পরিহিত এই বিশাল মূর্তিগুলোর ওজন ছয় টন থেকে পঞ্চাশ টন। উচ্চতা পাঁচ ফুট থেকে বারো ফুট। ঠিক করে জানা যায়নি এই মূর্তিগুলো কাদের। তবে অনুমান করা হয় একহাজার বছরের এই সভ্যতার প্রভাবশালী শাসকদের চিহ্নিত করতে এই মূর্তিগুলি তৈরি হয়েছিল। ওলমেকদের হাতে তৈরি এইসব মূর্তি দেখে বোঝা যায় তাদের শিল্পীরা পাথরখোদাই শিল্পে নিপুণ ছিল।

ওলমেকদের প্রধান শহর ছিল সান লরেঞ্জো। ৯০০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দ নাগাদ মেক্সিকোর সান লরেঞ্জো শহর ছেড়ে ওলমেকরা চলে আসে লা ভেন্টা অঞ্চলে। লা ভেন্টায় ওলমেক নির্মিত পিরামিডও দেখতে পাওয়া যায়। সান লরেঞ্জো ও লা ভেন্টায় পাথরে খোদাই অসংখ্য আকৃতি পর্যটকদের মন কাড়ে।

ক্যারল সুপে দক্কিণ আমেরিকার প্রাচীনতম সভ্যতা


দক্ষিণ আমেরিকার পেরুর সুপে নদির একফালি সবুজ উপত্যকার গা ঘেঁষে শুকনো পাথুরে মরুভূমিতে একটি সভ্যতার ভগ্নাবশেষ পাওয়া গেছে। অঞ্চলটিকে ‘ক্যারাল-সুপে’ নামে চিহ্নিত করা হয়। ৬২৬ হেক্টর অঞ্চল জুড়ে ভগ্নাবশেষ ছড়িয়ে আছে। এই সভ্যতা ৫০০০ বছর পুরোন। দক্ষিণ আমেরিকায় এটি সবচেয়ে সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতা। ওলমেক সভ্যতা থেকে ২০০০ বছরের আগের সভ্যতা মধ্য আন্ডিজ পর্বতমালায় অবস্থিত।

এটি ইউনেস্কো ঘোষিত একটি হেরিটেজ সাইট। এখানকার জটিল স্থাপত্য নিয়ে গবেষণা চলছে। এখানে পাথরের তৈরি ছয়টি জটিল নকশার পিরামিড আছে। প্রতিটি পিরামিডের নিচে আছে একটি করে গোলাকার মঞ্চ। মঞ্চগুলির কিনারা পাথর দিয়ে নিঁখুত ভাবে বাঁধা এবং প্রতিটির মাঝখানে নিচু ও গোলাকার একটি সমতল। ধার্মিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্যেই এই মঞ্চগুলি ব্যবহৃত হত বলেই ধারণা করা হয়।

গবেষকদের ধারণা ‘ক্যারাল-সুপে’ শহরের নকশাটি জটিল। ইনকা সভ্যতার আগেই এখানে ‘কিপু’ গিঁটের প্রচলন ছিল। ‘কিপু’ গিঁট দিয়ে তারা বিভিন্ন তথ্য নথিবদ্ধ করে রাখত বলে ধারণা করা হয়। গবেষকদের ধারণা ৩০০০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দ থেকে ১৮০০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দের মধ্যে এই অঞ্চলের স্থাপত্য ও বাস্তু নির্মান হয়েছিল।

টুলকিট একটি ভয় মাপার যন্ত্রের নাম


ছাপ্পান্ন ইঞ্চি ভয়। নাঃ কাউকে প্যাঁক দিচ্ছিনা। ভয়ের গভীরতা মাপছি। কেউ কেউ আরশোলা দেখে ভয় পায়। তার চেয়ে সাহসী যারা তারা আবার ইঁদুর দেখে ভয় পায়। আচ্ছা খাসা সাহসী লোক গোরু দেখে ভয় পায়। অনেকে অন্ধকার দেখে ভয় পায়। বিড়াল আচমকা শসা দেখে ভয় পায়। যাদের ভীমরতি ধরেছে তারা আবার দড়ি দেখে সাপ ভেবে ভয় পায়।

টূলকিট একটা ভয় মাপার যন্ত্র। পুরোপুরি ডিজিটাল। রাষ্ট্রের বগলে টুলকিট ঢুকিয়ে দেখলাম রাষ্ট্র ছাপ্পান্ন ইঞ্চি ভয় পেয়েছে। তারপর রাষ্ট্রবাবু দিশা রবি নামের একটি পরিবেশকর্মীর ওপর রাষ্ট্রদ্রোহের কেস ঠুকে দিয়েছে। রজ্জুতে সর্পভ্রম হয় সেটা তো বললাম। রাষ্ট্র কিন্তু তার বাকযন্ত্র মানে মিডিয়া দিয়ে সেই দড়িটাই যে সাপ সেটা প্রমাণ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এটাকে বলে এজেন্ডা ভাজা।

মানুষকে ভুল বোঝানো সহজ নয়। কিন্ত আজকাল আর মানুষ কোথায়! মানুষ তো জ্ঞান হারিয়েছে। সবাই তো পাবলিক হয়ে গেছে। পাবলিকের সামনে যদি একসঙ্গে খানকুড়ি মিডিয়া দড়িকেই সাপ বলে তবে ওই দড়িটাই নির্ঘাৎ সাপ। মিডিয়া কি আর পাবলিককে ভুল বোঝাবে? দেশদ্রোহীকে চিহ্নিত করার কাজ তো মিডিয়ার! এখন গাদাগুচ্ছের পাবলিক মানুষকে দেশদ্রোহী ভাবছে।

দেশদ্রোহিতা আজকাল জলভাতের মতো ব্যাপার। মাঠের মধ্যে শাবল দিয়ে গর্ত খুঁড়লেও আপনি দেশদ্রোহী হয়ে যেতে পারেন। আপনার কপাল মন্দ থাকলে মিডিয়া ওই গর্তের মধ্যে দিয়ে একটা সুরঙ্গ খুঁজে পাবে। এইবার মিডিয়ার জনাকয়েক পেয়াদা মাইক বগলে সেই সুরঙ্গে সুরুৎ করে ঢুকে পড়বে। তারপর তারা সেই সুরঙ্গ থেকে প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির ফুলের বাগান দেখতে পাবে। সুরঙ্গের মধ্যে আরও তিনটে রাস্তা থাকার কথা এরা বলবে। একটা পাকিস্তান পর্যন্ত চলে গেছে। আরেকটা চীন পর্যন্ত যাচ্ছে। এখন আবার খালিস্তানের রাস্তা দেখা যাচ্ছে। ওটা কানাডায় গিয়ে উঠছে। সুরঙ্গে ঢুকে মিডিয়ার পেয়াদাগুলো তারস্বরে চেঁচাবে। ষড়যন্ত্র প্রমাণ করতে রাষ্ট্রের স্বরযন্ত্র আপনার কান ঝালাপালা করে দেবে। টিভি বন্ধ না করা পর্যন্ত রেহাই নেই।

পাবলিক তো ঢুকতে পারছেনা। সুরঙ্গ থেকে শুধু মিডিয়ার আওয়াজ শুনেই পাবলিক ভয় ঠকঠক করে কাঁপতে শুরু করে দেবে। কেউ কেউ আবার লাঠি নিয়ে তাড়া করবে। কাউকে কখনো চোরাগোপ্তা আক্রমণে মেরেও ফেলা হবে। এসব আকছার হচ্ছে। তাই সাবধান। খবরদার কোথাও গর্ত খুঁড়বেন না বলে দিচ্ছি। ভয়ের গভীরতা এখন ছাপ্পান্ন ইঞ্চি। টুলকিট দিয়ে মেপে এসেছি।

মহাবতার করমচন্দ্রের অনশন পরিত্যাগে মমতেশ্বরীর অসীম অবদান


পুরাকালে বঙ্গবর্ষে ক্ষণিককাল মহারাণী মমতার রাজত্ব ছিল। তাঁহার মস্তিষ্কপ্রসূত বাক্যশ্রবণ করিয়া সেই বর্ষের প্রজাগণ কালযাপন করিতেন। মিথ্যাচারী মহারাণী মমতা প্রজাবর্গের সমীপ কৌতুকোপাদান রূপে গণ্য হইতেন।

“হে সর্বলোকগামী হুতোম পন্ডিত, আপনি আমাদিগের নিকট বর্ণিত করুন কেন তাঁহাকে কৌতুকোপাদান বলিয়া গণ্য করা হইত। আপনার বাক্যশ্রবণে আমাদিগের মানসপটলে ক্ষণিক জ্ঞানালোক প্রক্ষেপিত হইবে।” এই বলিয়া রাজা জনার্দন হুতোম পন্ডিতকে আনয়নের নিমিত্ত মন্ত্রোচ্চারণ দ্বারা হুটাহুট শব্দবাণ নিক্ষেপ করিলেন।

“সেই যুগে এক স্বনামধন্য মহাকবি বঙ্গবর্ষে বিরাজিত ছিলেন। তাঁহার প্রতিভা দূরদিগন্ত বিস্তৃত ছিল। প্রজাসকলের নিকট সেই কবি প্রণম্য ছিলেন এবং মহাকবি প্রজাসকল দ্বারা কবিগুরু উপাধি ভূষিত হইয়াছিলেন। মিথ্যাচারী মহারাণীর জন্মগ্রহণের বহুকাল পূর্বেই মহাকবি স্বর্গারোহণ করিয়াছিলেন। মহারাণী মমতা কবিগুরুকে প্রণাম জানাইয়া বিভিন্ন জনপদে তাঁহার স্তুতিগান করিতেন ও বিকৃত ইতিহাসভাষ্যদ্বারা প্রজাসকলকে হাস্যরসে স্নিক্ত করিতেন।”

“কথিত আছে একদা মহারাণী মহাত্মা মোহনদাস করমচন্দ্রের অনশনধর্ম পরিত্যাগ করাইবার নিমিত্ত কবিগুরুর অশরীরি আত্মাকে আনয়ন করিয়া মহাবতার মহাত্মাকে লেবুফলের নির্যাস মিশ্রিত পানীয় পান করাইয়া ছিলেন। সেই যুগের প্রজাসকল মহারাণীর নিকট এইরূপ শ্রুত হইয়া কৌতুককালগর্ভে নিক্ষেপিত হইয়া দীর্ঘকাল কৌতুকে জীবনযাপন করিয়াছিলেন। প্রজাসকল উপলব্ধি করিয়াছিলেন যে অস্থিরমস্তিষ্ক দেবী মমতা পুরাণ সম্বন্ধে সম্পূর্ণ অজ্ঞ হইয়াও পুরাণবেত্তা ছিলেন। কারণ মহাবতার মহাত্মা মোহনদাসের অনশনধর্ম পরিত্যাগের বহুকাল পূর্বেই মহাকবি কবিগুরু পারলৌকিক পথের পথিক হইয়াছিলেন। যে সকল রাজা ও রাণী পুরাণ সম্বন্ধে যৎসামান্য জ্ঞান আহরণ না করিয়া রাজকার্য পরিচালনা করেন, তাঁহাদের বর্ষের প্রজাসকলকে দুঃখ ও দৈন্যের সম্মুখীন হইতে হয়।” এই বলিয়া প্রজাসকলকে সতর্কবার্তা প্রেরণ করিয়া হুতোম পন্ডিত ফরফর করিয়া দুই পক্ষবিস্তারপূর্বক মহাকাশে বিলীন হইলেন।

পুরাকালে রাণী মমতেশ্বরী কাকেশ্বর রোগাক্রান্ত হইয়াছিলেন


হে পন্ডিত হুতোম, আপনি সর্বকালবেত্তা। আপনি সর্বলোকগামী মহাপুরুষ। আপনি আমাদিগের কৌতূহলের একমাত্র নিবারক হইয়া আবির্ভূত হইয়া পুরাকালের ঘটনাবলীর বর্ণনা দ্বারা অহরহ আমাদিগকে মুগ্ধ করিয়াছেন। অদ্য আপনার নিকট পরিশ্রুত হইতে চাই, কি কারণে মহারাণী মমতাকে কাকেশ্বর রোগ গ্রাস করিয়াছে এইরূপ কথিত ছিল? প্রশ্নপর্বের ক্ষণকাল পরে রাজা জনার্দন মন্ত্রোচ্চারণের দ্বারা বিবিধ জপাদি সম্পন্ন করিয়া দুই হস্তের ষড়াঙ্গুলি মুখগহ্বরে প্রবিষ্ট করাইয়া হুতোম পন্ডিতকে আনয়নের নিমিত্ত হুটাহুট মন্ত্রবাণ নিক্ষেপ করিলে তৎক্ষণাত পক্ষবিস্তার করিয়া নিঃশব্দে সর্বলোকচর হুতোম আবির্ভূত হইলেন।

“হে সুমতি জনার্দন, পুরাকালে বঙ্গবর্ষে কুমতি, ক্ষীণবুদ্ধি ও মিথ্যাচারী রাণীর মমতার রাজত্বকালে বঙ্গবর্ষের প্রজাসকলের দুঃখের অন্ত ছিলনা। প্রজাসকল রাণীর কোপভাজিত হইয়া মৃত্যু গহ্বরে পতিত হইত। কুশাসনের কোপে পতিত হইয়া নবোজাত শিশুসকল ভূমিষ্ঠ হইয়া তৎক্ষণাত প্রাণবায়ু ত্যাগ করিয়া পরলোকগামী হইত। শিশুমৃত্যর হার বর্ধিত হইয়াছিল। মিথ্যাচারী ও অবিবেচক রাণী মমতা ইহাতে আহ্লাদিত হইয়া পরস্কন্ধে দোষারোপণ করিয়া নিতান্ত সুখী হইয়াছিলেন।”

“আমরি চিকিৎসায়নে সেই কালে শতাধিক দুঃস্থ ও দুরারোগ্য ব্যধিময় রোগীর হত্যালীলা সংঘটিত হইয়াছিল। আমরি কর্তৃপক্ষের অসাবধানতা এবং ভ্রষ্টাচারী রাণীর অদূরদর্শিতার কারণেই চিকিৎসায়নের সুরক্ষা বিঘ্নিত হইয়াছিল। আমরি অট্টালিকার অন্দরগহ্বরে সামান্য স্ফূলিঙ্গসম অগ্নিশিখা রাক্ষসীরূপ ধারণ করিয়া শতাধিক রোগীকে গ্রাস করিয়াছিল। ইহাতেও কদাচারী রাণী যারপরনাই আহ্লাদিত হইয়া সংবাদমাধ্যমের সম্মুখে নিজ নাট্যলীলা সম্পাদিত করিয়া সমগ্র প্রজাসকলের নিমিত্ত দুঃখনিবারক ছলব্রতী হইয়াছিলেন। যথারীতি পরস্কন্ধে দোষারোপণ করিয়া পরমসুখে রাজকার্য্যাদিতে মনোনিবেশ করিয়াছিলেন।”

“সেই সময়ে বঙ্গবর্ষের দুঃস্থ প্রজাসকল অত্যধিক পানাসক্ত হইয়াছিল। তাহারা দেশজ সুধা পান করিয়া নিজ দুঃখ নিবারণ করিবার প্রচেষ্টা করিত। দেশজ সুধাকে গরল রূপে গণ্য করা হইত এবং উক্ত পানীয় নিষিদ্ধ ছিল। কথিত আছে অবিবেচক রাণী মমতার রাজত্বকালে সুধাপায়ী জনসংখ্যা শতগুণ বর্ধিত হইয়াছিল। একদা মগরাহাট নামক জনপদে সেই গরলসুধা পান করিয়া দ্বিশতাধিক প্রজা প্রাণবায়ু ত্যাগ করিলে সমগ্র বঙ্গবর্ষ আন্দোলিত হইয়াছিল। দিকে দিকে অপশাসনের ফলস্বরূপ ইহা সংঘটিত হইয়াছে এইরূপ প্রতিফলিত হইয়াছিল। প্রজাসকল রাণীর নিকটাত্মীয় গরলসুধা ব্যবসায়ীদিগের শাস্তির বিধান দাবি করিয়াছিল। মিথ্যাচারী রাণী পরস্কন্ধে দোষারোপণ করিয়া স্বীয় ঘৃণ্যকৃত কিঞ্চিত লাঘব করিবার প্রচেষ্টারত হইয়াছিলেন।”

“একদা রাজসভায় দন্ডায়মান হইয়া রাণী উচ্চৈঃস্বরে ঘোষণা করিয়াছিলেন যে ভবিষ্যতে যাহা কিছু দুর্ঘটনা ঘটিবে তাহার ভার তিনি পরস্কন্ধারোপণ করিবেন। সিপিএম নামক একটি জনগোষ্ঠীর প্রতি তিনি সর্বদা ঈর্ষান্বিত থাকিতেন। ঈর্ষার বশীভূত হইয়া তিনি প্রতিটি দুর্ঘটনার দায়ভার সিপিএমের উপর ন্যাস্ত করিয়া প্রজাসকলকে ভ্রমিত করিয়া পরমসুখে বহুকাল রাজত্ব করিয়াছিলেন। রাণী মমতা মিথ্যাচারী হইলেও সংবাদমাধ্যমসকল রাণীর অভিশম্পাত এড়াইতে তাঁহার মিথ্যাভাষ্য প্রচার করিত। প্রজাসকল প্রত্যহ মিথ্যা পাঠ করিলেও রাণীর ভয়ে ভীত হইয়া সত্যান্বেষণ হইতে বিরত থাকিত। এবং মনেপ্রাণে রাণী হইতে মুক্তির পথ ভিক্ষা করিত।”

“একদা সুবৃহৎ চিকিৎসায়নে জনৈক রোগীর দেহ মূষিকে দংশন করিলে অত্যধিক রক্তপাতজনিত কারণে রোগীর মৃত্যু ঘটিলে রাণী মমতা সিপিএমের দোষ খুঁজিয়া পাইলেন। কথিত আছে তিনি বলিয়াছিলেন যে তাঁহার রাজ্যাভিষেকে সিপিএম ঈর্ষান্বিত হইয়া বিভিন্ন চিকিৎসায়নে রোগীদের হত্যা করিবার নিমিত্ত মূষিক প্রসব করিয়াছে।”

“উক্ত রাণীর জন্মলগ্নের শতাধিক বৎসর পূর্বে সুকুমার রায় নাম্নী প্রসিদ্ধ সাহিত্যিক তাঁহার ‘হযবরল’ গ্রন্থে বর্ণনা করিয়াছিলেন যে কাকেশ্বর নামক এক বায়সের নিকট দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের পরিমাপ নিমিত্ত একটি যন্ত্র ছিল। উক্ত যন্ত্রে সর্বদা ‘ছাব্বিশ ইঞ্চি’ প্রতিফলিত হইত। অর্থাৎ কোন বস্তুর পরিমাপ যাহাই হউক না কেন কাকেশ্বরের যন্ত্রে তাহা ‘ছাব্বিশ ইঞ্চি’ দর্শিত হইত। প্রজাসকল কৌতূহল নিবারণের জন্য প্রশ্ন করিলে কাকেশ্বর কহিত যে তাহার যন্ত্রটির সর্ব রেখাসমূহ ক্ষয়িত হইয়াছে এবং কেবলমাত্র ‘ছাব্বিশ ইঞ্চি’ রেখাটি পাঠযোগ্য রহিয়াছে। ফলস্বরূপ পরিমাপ করিতে হইলে তাহার ছাব্বিশ ইঞ্চি ব্যতিরেকে অন্য কোন উপায় নাই।”

“হে জনার্দন, বঙ্গবর্ষের রাণী মমতা কাকেশ্বর রোগগ্রস্ত হইয়াছিলেন। যন্ত্র ক্ষয়িত হইলে কাকেশ্বর যেমন কেবলমাত্র ছাব্বিশ ইঞ্চি দর্শন করিতে সক্ষম হইত তেমনি অবিবেচক রাণী মমতার দৃষ্টিক্ষীণ এবং মতিভ্রম হইলে তিনি কেবলমাত্র সিপিএম উপলব্ধি করিতে সক্ষম ছিলেন। এবং ঘটনা কিংবা দুর্ঘটনার দায়ভার সিপিএমের স্কন্ধারোপণ করিতে তৎপর হইতেন।”

এইরূপ ভাষ্যদানপূর্বক হুতোম পন্ডিত পক্ষবিস্তারপূর্বক ফরফর শব্দ সহযোগে মহাকাশে বিলীন হইলে রাজা জনার্দন পুনরায় রাজনীতিশাস্ত্র অধ্যয়নে মনোনিবেশ করিলেন।

রাজা নরেন্দ্রমোদি ও ইমেল বার্তা


রাজা জনার্দন তাঁর রাজসভাগারে হুটাহুট শব্দবাণ প্রয়োগ করিয়া হুতোমকে স্মরণ করিতেই হুতোম তাঁর পাখনা বিস্তার করিয়া পৎপৎ মন্ত্রোচ্চারণ করিতে করিতে সভাগারের ঝাড়বাতির ওপর আসন গ্রহণ করিল। রাজা জনার্দন হুতোম দর্শনে আহ্লাদিত হইয়া সাষ্টাঙ্গ প্রণামবিধি পালনপূর্বক হুতোমকে খাদ্যাদি দ্বারা আপ্যায়ণ করিয়া নিজের কৌতূহল নিবারণ করিবার মনস্থির করিয়া হুতোমকে কহিল, “হে মহাপন্ডিত, সর্বকালবেত্তা, সর্বলোকগামী, কূলশ্রেষ্ঠ হুতোম, আপনি আজ আমাদিগের কাছে পুরাকালের ভারতবর্ষের রাজা নরেন্দ্র কাহিনী বর্ণনা করিলে আমরা ধন্য হইয়া সহস্রকোটি বৎসর আপনার জ্ঞানের প্রচার করিব”।

রাজার মুখে এইরূপ শুনিয়া হুতোম কহিল, “শোন হে নরপতি জনার্দন, পুরাকালে ভারতবর্ষে বাগ্মী রাজা নরেন্দ্রমোদি অলৌকিক ক্রিয়াদির দ্বারা জনতাকে বশীভূত করিতে সক্ষম ছিলেন। তিনি বশীকরণ মন্ত্র জানিতেন। তিনি মিত্রোঁবাণ নিক্ষেপ করিলে অন্ধজনের চক্ষুপ্রাপ্তি হইত। অমাবস্যার সন্ধ্যায় তিনবার তিনি পাকিস্তানবাণ নিক্ষেপ করিলে জনতা বশীভূত হইয়া ঢক্কানিনাদে তাঁহার জয়জয়কার করিত। জয়োধ্বনি শ্রবণ করিয়া নরেন্দ্র উৎফুল্ল হইয়া মন কি বাত মন্ত্রপাঠ করিলে বশীভূত প্রজাগণ মোদিধ্বনি প্রয়োগ করিয়া সহর্ষে জীবনযাপন করিত।“


এইরূপ কহিয়া হুতোম রাজা জনার্দনের সিংহাসনের বাহুর ওপর আসীন হইয়া চুপিচুপি কহিল, “রাজা নরেন্দ্র গুলমন্ত্র জানিতেন। ততঃদ্বারা তিনি গুলবাণ নিক্ষেপ করিলে প্রজাগণ সজ্ঞানে অজ্ঞান হইতেন। তাঁহার গুলবাদ্য শুনিয়া প্রজাগণ মুগ্ধ হইয়া পুনরায় মোদিধ্বনি তুলিয়া গুলকাহিনী কর্তন করিত। কথিত আছে সেইকালে গুলকাহিনী শ্রবণ করিলে দুরারোগ্য ব্যধি নিরাময় হইত। ক্ষুধাব্যধি নিবারণের জন্যে তিনি গুলমন্ত্র নিক্ষেপ করিলে মানুষ ক্ষুধা ত্যাগ করিয়া মোদিরবে মুখরিত হইত।“

সভাস্থলে সভাসদগণ নিশ্চুপ হইয়া হুতোম কন্ঠে প্রাচীন কাহিনী শ্রবণ করিতে করিতে মৃদু মোদিবাদ্য বাদনে মগ্ন হইতেছে। এইরূপ দেখিয়া হুতোম উৎসাহিত হইয়া গম্ভীর কন্ঠে কহিতে লাগিল, “পুরাকালে রামায়ণের রাম যখন সীতাকে খুঁজিতে তাঁহার পরাক্রমী বানরসেনাকে পৃথিবীর চতুর্দিকে প্রেরণ করিলেন, তখন পবনপুত্র মহাবীর হনুমান অহরহ নরেন্দ্রকে ইমেল করিতেন। ইমেল প্রাপ্ত হইলে মোদিরাজা রামের নিকট তাহা প্রেরণ করিয়া রামকে সীতাসন্ধানের পূঙ্খানুপূঙ্খ বর্ণনা করিতেন। যখন কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ চলিতেছে তখন মহামতি বিদুর যুদ্ধচিত্র ক্যামেরাবন্দী করিয়া রাজা নরেন্দ্রকে প্রেরণ করিতেন। নরেন্দ্র তাঁহার মন কি বাত পুরাণে এইরূপ কহিয়াছেন।”

রাত্রিকাল পূর্ণ হইয়া ভোরের আলো ফুটিতে দেখিয়া হুতোম স্বস্থানে গমনের জন্যে উদগ্রীব হইয়া রাজা জনার্দনকে কহিলেন, “হে সুমতি জ্ঞানপিপাসু জনার্দন, রাজা নরেন্দ্রমোদির কাহিনী সহস্র বৎসরকাল চলিতে পারে। সময়াভাবে অদ্য ক্ষান্ত হইলাম”। সভাসদগণ মোদিধ্বনি সহযোগে হুতোমকে সম্ভাষণ করিয়া হুতোম মহাপন্ডিতের পুনরায় আগমনের তিথি নির্ণয় করিতে লাগিল।